অক্টোবরের তৃতীয় সপ্তাহে পরিক্ষায় বসছে যে সব শিক্ষার্থীরা

জাতীয়

কোভিড-১৯ মহামারি করোনার কারণে স্থগিত হয়ে যাওয়া মেডিকেল ফাইনাল প্রফেশনাল পরীক্ষা গ্রহণের পক্ষে সিদ্ধান্ত দিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কমিটি। আগামী অক্টোবরের ৩য় সপ্তাহে এ পরীক্ষা অনুষ্ঠানের সম্ভাবনা রয়েছে।সোমবার (৩১ আগস্ট) সচিবালয়ে স্বাস্থ্য ও শিক্ষা বিভাগের সচিবের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আগামী সোমবারের মন্ত্রিসভার বৈঠকে বিষয়টি তোলা হবে।

সিদ্ধান্তটি এমন একটি সময়ে এলো যখন পরীক্ষার দাবিতে আমরণ অনশনসহ লাগাতার কর্মসূচি পালন করে আসছিলেন মেডিকেলের শেষ বর্ষের পরীক্ষার্থীরা।মন্ত্রিসভায় পাস হলে কোভিড লকডাউনের পর সরকারিভাবে শ্রেণিকক্ষে পরীক্ষা অনুষ্ঠান হবে। একইসঙ্গে মাত্র একটি বা দুটি বিষয়ে অকৃতকার্য হওয়া প্রায় দুই হাজার মেডিকেল শিক্ষার্থী শিক্ষাজীবন শেষ করার সুযোগ পাবেন।

সচিবালয়ের সভায় অংশ নেন বিভিন্ন মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা অনুষদের ডিন ও বিভিন্ন মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষরা।সভা শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা অনুষদের ডিন শাহরিয়ার নবী শাকিল সময় সংবাদকে জানিয়েছেন, মন্ত্রণালয় ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানরা মেডিকেল ফাইনাল প্রফেশনাল পরীক্ষা গ্রহণের ব্যাপারে ঐক্যমত হয়েছেন। তাই বিশেষ কোনো পরিস্থিতি ছাড়া এ পরীক্ষা গ্রহণে আপাতত কোনো বাধা থাকল না।

তবে আসছে কেবিনেট মিটিংয়ে বিষয়টি অবহিত করা হবে। সেখান থেকে চূড়ান্ত অনুমোদন পেলেই পরীক্ষার যাবতীয় প্রস্তুতি নেবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো। লকডাউন ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করার সরকারি ঘোষণার পর যেসব বিদেশি শিক্ষার্থী নিজ দেশে ফেরত গেছে তাদেরকে দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে কি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এমন প্রশ্নে এ শিক্ষক জানান, তাদেরকে এরই মধ্যে দেশে ফিরে আসতে মেইল করা হয়েছে।

সচিবালয়ের সভায়, অক্টোবর মাসের ৩য় সপ্তাহের পরীক্ষা গ্রহণের ব্যাপারে মত দিয়েছেন অধিকাংশ অধ্যক্ষ জানান শাকিল।এ বিষয়ে স্বাধীনতা চিকিৎসক ফোরামের মহাসচিব ডা. আজিজুর রহমানের সঙ্গে কথা বলে সময় সংবাদ। তিনি পরীক্ষা গ্রহণের এ সিদ্ধান্তের যৌক্তিক আখ্যা দেন। বলেন, মন্ত্রণালয় ও শিক্ষকরা চাইলে পরীক্ষা আরও আগেও নেয়া সম্ভব হতো।

উল্লেখ করেন, যেহেতু সেপ্টেম্বরেই একটি ব্যাচের ইন্টার্ন শেষ হচ্ছে, সেহেতু তখন থেকেই হাসপাতালগুলোতে ইন্টার্নদের একটা সংকট হবে। সরকারের সিদ্ধান্তে এ সংকট উত্তরণের জন্য সহায়ক হবে। যোগ করেন এ চিকিৎসক নেতা।মেডিকেল প্রফেশনাল পরীক্ষা বছরে দুইবার মার্চে ও ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু করোনার কারণে মার্চের পরীক্ষা স্থগিত হলে,

বিপাকে পড়ে যায় গেল বছরের ডিসেম্বরে মাত্র ১টি বা ২টি বিষয়ে অকৃতকার্য হওয়া দেশের বিভিন্ন মেডিকেলের প্রায় ২ হাজার শিক্ষার্থী। করোনা মহামারিতে অগ্রসেনার ভূমিকায় থাকা চিকিৎসকদের চাহিদা পূরণ করতে পারবেন এমন দাবি তুলে মহামারি পরিস্থিতির মধ্যেও পরীক্ষার দাবিতে আন্দোলন করে আসছিল এসব শিক্ষার্থীরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *