আওয়ামী লীগকে কাদের সিদ্দিকীর চ্যালেঞ্জ

আগামী ৩০ ডিসেম্বরের আগেই জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের এমপিদের পদত্যাগের আহ্বান জানিয়েছেন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী। সাথে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বঙ্গবীর কাদের বলেন, ‘শেখ হাসিনা জমের দুয়ার বাইন্ধা আসে নাই। এই দেশে কেউ চিরস্থায়ী না। শেখ হাসিনাও চিরস্থায়ী না।এই কথাটা কেন যে আওয়ামী লীগের লোকেরা ভাবতেছে না, আমি সেটাই বুঝি না। আমি এখান থেকে তাদের চ্যালেঞ্জ করলাম,

বাংলাদেশের যে কোন নির্বাচনে চুরি না করে নৌকা যদি পাশ করে তাহলে আমি সমুদ্রে গিয়া ডুব দেব।’ আজ শনিবার (২৮ ডিসেম্বর) রাজধানীর মহানগর নাট্য মঞ্চে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডির) কেন্দ্রীয় সম্মেলন উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।আলোচনা সভায় তিনি আরও বলেন,

‘বিএনপি, ২০ দল ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট যদি বর্তমান সংসদকে অবৈধ দাবি করে থাকেন তবে ঐক্যফ্রন্টের আট জন সংসদে গেছেন তারা কেন অবৈধ হবে না? যদি সংসদ অবৈধ হয়েই থাকে, তাহলে ৩০ ডিসেম্বরের আগেই ঐক্যফ্রন্টের আট সাংসদকে পদত্যাগ করতে হবে। তাহলেই জনগণ সঙ্গে থাকবে। দ্বিমুখী আচরণ জনগণ মেনে নেয় না।’ গত ৩০শে ডিসেম্বরের নির্বাচনে কোন ভোট হয় নাই দাবি করে কাদের সিদ্দিকী বলেন, ‘আমি বলি গত ৩০শে ডিসেম্বর এই দেশে কোন ভোট হয় নাই।দেশের মানুষ তাদের ভোট দিতে পারে নাই। সাড়ে তিনশ সদস্যের এই অবৈধ সংসদ। ভাত খাওয়ার সময় যেভাবে ভাগ করে দেয়া হয়,

ঠিক সেভাবে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আটজনকে নির্বাচিত করে নির্বাচন দেখানো হয়েছিল। তারা কিন্তু সংসদেও গেছে। যদি সংসদ অবৈধ হয় তাহলে ঐক্যফ্রন্টের যে আটজন গেছে তারাও অবৈধ। হয় তারা পদত্যাগ করুক, না হয় ৩০ তারিখের আগেই তাদের বহিষ্কার করুন। তাহলে দেখবেন মানুষ আপনাদের পেছনে দাঁড়াবে। রাজনীতিতে একদিকে থাকতে হবে। সেদিক হচ্ছে মানুষের দিক। মানুষের দিক ছাড়া অন্যদিকে গিয়ে লাভ নাই।’নির্বাচন কমিশনের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের বর্তমান ইলেকশন কমিশন বিশ্বের সবচাইতে গর্দভ কমিশন। নিরপেক্ষ নির্বাচন করতে তারা ব্যর্থ।’

জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডির) কেন্দ্রীয় সম্মেলন উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রবের সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক এবং গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান,জাতীয় পার্টি (জাফর) চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুক, গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি অধ্যাপক আবু সাঈদ, প্রেসিডিয়াম সদস্য অ্যাডভোকেট মোহসীন রশিদ, বিকল্প ধারার মহাসচিব শাহ আহমেদ বাদল, জেএসডির সহ-সভাপতি তানিয়া রব, বিপ্লবী কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক কমরেড সাইফুল হক, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি, জেএসডির যুগ্ম-সম্পাদক শহীদউদ্দীন মাহমুদ স্বপন, নাগরিক ঐক্যর আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না ও বিকল্প ধারার সভাপতি নুরুল আমীন বেপারী প্রমুখ।

Leave a Comment