গাঁ-জা খাইয়ে তরুণী ধ-র্ষণ

জাতীয়

মৌল-ভীবাজারে এক ত-রুণীকে গাঁ-জা খাইয়ে ধ-র্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। নৈ-শভোজে নিয়ে গাঁ-জা খাইয়ে ধ-র্ষণের অভিযোগে মামলার পর সেই রাতের সংঘটিত ঘ-টনার বিবরণ দিয়েছেন সেই তরুণী। -ধ-র্ষণের মামলার প্রধান আসামি হলেন শহরের বড়হাট এলাকার সজীব তুষার (২৩)। সহযোগী হিসেবে ঢাকার মোহাম্মদপুরের মারজিয়া প্রভা ও মৌলভীবাজার কলিমাবাদের রায়হান আনছারীকেও আসামি করা হয়েছে।মৌলভীবাজার মডেল থানার ওসি ইয়াছিনুল হক বলেন, ওই তরুণী সোমবার রাতে ধ-র্ষণ ও ধ-র্ষণে সহযোগিতার অভিযোগ এনে একটি এবং

ফেইসবুকে ‘আপ-ত্তিকর’ ছবি পোস্ট করায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে আরও একটি মামলা করেছেন। ওসি জানান, বাদীর অভিযোগ থেকে তিনি জানতে পারেন গত ৩ অগাস্ট সাংবাদিক মাহমুদ এইচ খানের মৌলভীবাজার সোনাপুরের বাসায় ব-ন্ধুদের নিয়ে নৈ-শভোজের আয়োজনে সজিব তুষার তাকে নিয়ে গিয়েছিল। ওই বাসায় আড্ডা চলাকালে সিগারেটের স-ঙ্গে গাঁজা খাইয়ে নেশাগ্র-স্ত করে একটি রুমে নিয়ে তাকে ধ-র্ষণ করেন তুষার। তাকে সহায়তা করে মারজিয়া প্রভা ও রায়হান আনছারী। সেদিনের ঘ-টনার বিবরণে ধ-র্ষণের শিকার ত-রুণী বলেন,

‘আমার পূ-র্বপরিচিত তুষারের সাথে আমি একটি ডিনার পার্টিতে গিয়েছিলাম। সেখানে সে আমাকে গাঁ-জা খাইয়ে ধ-র্ষণের পরিক-ল্পনা করে রেখেছিল, আগে জানতাম না। আমি প্রথমে গাঁ-জা খেতে চাইনি, প্রভা ও রায়হান ভাই বলায় খেয়েছিলাম। কিন্তু অল্প খেয়েই আমার শরীর খারাপ লাগছিল। সেখানে সাধারণ সিগারেটের কথা বলে মা-স্টারমাই-ন্ড ধ-র্ষক তুষার আমাকে গাঁ-জা খাইয়েছে। সবাই যখন টেবিলে খেতে

বসছে তখন আমি একদম অসু-স্থ হয়ে পড়ি এবং ঘুমাতে চাই। তখন ধ-র্ষক তুষার আমাকে বেডরুম দেখিয়ে দেওয়ার কথা বলে রুমে নিয়ে দরজা লাগিয়ে জোরপূর্ব-ক ধ-র্ষণ করে।’‘দু-র্বল হয়ে পড়ায়’ প্রতিরোধ করতে পারেননি বলে উ-ল্লেখ করেন ওই তরুণী। তিনি বলেন, ‘পরে তিনি অ-জ্ঞান হয়ে পড়েছিলেন।আমি পরিবারের স-ম্মানহানির কথা ভেবে আর মামলাও করতে চাইনি তখন।

পরে তারা এটাকে ধ-র্ষণ নয় বলে ব-ক্তব্য দেয়। আমি ধ-র্ষণের শিকার হব, আবার ‘স্বা-ভাবিক সে-ক্স’ বলে আমাকে মিস-ট্রিট করা হবে, তা কতক্ষণ মেনে নেওয়া যায়? মানসিকভাবে এসব মেনে নিতে না পেরে আমি পরিবারের বাধা স-ত্ত্বেও মামলা করি।’ এদিকে সাংবাদিক মাহমুদ এইচ খান বলেন, ‘আমার বাসাতে মারজিয়া প্রভাকে গেস্ট করেছিলাম। সেখানে সে ডিনার পার্টি করতে চাওয়ায় আমি সম্মতি দিই। তুষার একটি মেয়েকে নিয়ে আসবে, এখানে তুষার গাঁ-জা নিয়ে আসবে, এসবের কিছুই প্রভা আমাকে আগে জানায়নি।’ মামলার আসামি নারীর স্বা-স্থ্য সুরক্ষা ফোরামের (নাসাসু) সমন্বয়ক মারজিয়া প্রভা এই ঘ-টনা নিয়ে ফেইসবুকে লিখেছেন,

সংগত কারণেই আমার প-র্যবে-ক্ষণ, বোঝাপড়া কোনটাই আমি এই মুহুর্তে সোশ্যাল মিডিয়ায় দিচ্ছি না। যেহেতু পুরোটাই আইনি প্রক্রি-য়ায় যাচ্ছে। যে অভিযোগ এসেছিল তা ঘ-টনার দুদিন পরে যখন প্রথম জানতে পারি, তখন থেকেই আমি আমার জায়গা থেকে আইনে প্রক্রিয়ার পক্ষে ছিলাম। যে প্রয়ো-জনীয়তা অনেক পরে অনুধাবন করা হলো।’ প্রভা লিখেন, ‘প্রথমেই আমি আসলে মেয়েটিকে ধ-ন্যবাদ জানাবো।

গাটস নিয়ে তিনি মামলা করেছেন বলে। আমাদের দেশে লিংগ ভিত্তিক সহিংসতার মামলার ক্ষেত্রে এই নারীটির এই উদ্যোগ সত্যিই প্র-শংসনীয়। কারণ ফেসবুক মিডিয়া ট্রা-য়ালের ভিকটিম আমরা যেমন হইছি, তিনিও হয়েছেন। কিন্তু তার হওয়াটা তাকে ভালনারেবল করে দেবার জন্য আরও যথেষ্ট ছিল। আমি আমার এই ক্ষু-দ্র ২৮ বছর জীবনের যতটুকু নীতি নৈ-তিকতা নিয়ে কাজ করেছি, সেই জায়গা থেকে, একজন সমাজতান্ত্রি-ক নারীবাদী হিসেবে আমি মেয়েটির এই সাহসিকতাকে সস-ম্মানে স্যালুট জানাই, হতেই পারে তিনি আইনের হিসাবে আমার প্র-তিপ-ক্ষ।’ ধ-র্ষণ মামলার প্রধান আসামি তুষার ফেইসবুকে লিখেছেন, “

মামলা হয়েছে, ওয়ারে-ন্ট এসেছে। শী-ঘ্রই আ-ত্মসম-র্পণ করে আইনের কাছে সোপর্দ করবো নিজেকে। যদি আমি অপরাধী প্রমাণিত হই তবে নিজের জন্য ক্ষ-মা নয়, বরং নিজের সর্বো-চ্চ বিচারই চাইবো। কিন্তু যদি আমি নি-র্দোষ প্রমাণিত হই, তবে আমার সাথে যারা এই ঘৃ-ণ্য অপরাধ করলেন, আপনাদের সবাই’কে আমি নিঃশ-র্তে ক্ষমা করে গেলাম।’ মামলার প্রতিক্রি-য়ায় তিনি লিখে–ছেন, ‘অবশেষে মব জা-স্টিস থেকে মু-ক্তি। ধন্যবাদ জানাই মেয়েটিকে। সত্য মিথ্যা বিচারটা এখন আদালতই করুক।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *