ডায়াবেটিস থেকে দাঁতের রোগ

জাতীয়

ডায়াবেটিস থেকে দাঁতের রোগ ডায়াবেটিস এমন একটি রোগ যা মাথার চুল থেকে পায়ের নখসহ শরীরের অন্যান্য অঙ্গপ্রত্যঙ্গে প্রভাব ফেলে। চোখ, হৃৎপিণ্ড, কিডনি, মস্তিষ্ক ছাড়াও ডায়াবেটিসের প্রভাব রয়েছে দাঁত ও মুখগহ্বর-এর উপর। ডেন্টাল ক্যারিজ বা দন্তক্ষয়, জিনজিভাইটিস বা মাড়ি প্রদাহ, মুখে বিভিন্ন প্রকারের ঘা ইত্যাদি রোগগুলো উল্লেখযোগ্য।

ডায়াবেটিস থেকে দাঁতের রোগ:ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীদের জিনজিভাইটিস বা মাড়ি প্রদাহ খুব বেশি হয়ে থাকে। আমরা জানি রক্তনালির মাধ্যমে রক্ত প্রবাহিত হয়ে শরীরে প্রয়োজনীয় অক্সিজেন পৌঁছে দেয় এবং দূষিত পদার্থ ছাঁকন করে থাকে। কিন্তু ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীদের রক্তনালিকাগুলো সরু হয়ে যায়, ফলে রক্তের স্বাভাবিক গতি ব্যাহত হয়। কাজেই অক্সিজেন ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় উপাদান যথেষ্ট পরিমাণে পৌঁছাতে পারে না। ঠিক তেমনি দাঁতের মজ্জা ও মাড়ির রক্তনালীর প্রবাহে ব্যাঘাত ঘটায় মাড়ি ফুলে যায়, ধীরে ধীরে প্রদাহের সৃষ্টি হয়। এছাড়াও রক্তকণিকার কার্যক্ষমতাও কমে যায়।ডায়াবেটিস আক্রান্ত রোগীদের ক্ষেত্রে ‘শ্বেতরক্তকণিকা’ যাকে কিনা ‘দেহরক্ষী’ বলা হয়, সেটি ঠিকমতো কাজ করতে পারে না। যার ফলে প্রদাহ বারবার হয় এবং সহজে ভালোও হয় না।ডায়াবেটিস আক্রান্ত রোগীর দেহের রোগ প্রতিরোধ

ক্ষমতাও কমে যায়। ইনসুলিন কম উৎপন্ন হওয়ায় প্রোটিনেরও ঘাটতি হয়। স্বাভাবিক টিস্যু বা কোলাজেন বৃদ্ধি ও উৎপাদন ব্যাহত হয়, তাই মুখের কোনো স্থানে ঘা বা প্রদাহ হলে তা সারতে দেরি হয় বা বিঘ্ন ঘটে।ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীর মুখের লালার সঙ্গে গ্লুকোজের পরিমাণ বেশি থাকে। যার ফলে এই চিনি বা গ্লুকোজ মুখে ব্যাকটেরিয়ার সঙ্গে মিশে এক ধরনের এসিড তৈরি করে যা কিনা দাঁতের উপর প্রলেপের মতো থাকে। ধীরে ধীরে এই এসিড দাঁতের এনামেলকে ক্ষয় করতে থাকে, পর্যায়ক্রমে ক্ষয় করতে করতে দাঁতের মজ্জা পর্যন্ত পৌঁছে যায় এবং তখনই অসহনীয় ব্যথা হয় যা কান, মাথা, ঘাড় পর্যন্ত পৌঁছে যায়।

ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে চোয়ালের হাড় ক্ষয় হয়ে দাঁত নড়ে যাওয়াও খুব প্রচলিত একটি সমস্যা। মাডির প্রদাহ দীর্ঘদিন থাকলে ধীরে ধীরে পেরিওডন্টাইটিস (মাড়ির চারপাশের সকল গঠন এ সংক্রমণ) হয়ে যায়। এর ফলে হাড় ক্ষয় হয়ে দাঁত নড়ে যায় বয়সের আগেই। এসব কারণে রোগী ঠিকমতো খাবার চিবিয়েও খেতে পারে না। ফলে হজমেও সমস্যা দেখা দেয়।ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীদের স্বাভাবিক লালার পরিমাণ কমে যাওয়ায় মুখ শুষ্ক হয়ে যায়। যার ফলে খাদ্যকণা দাঁতের সঙ্গে লেগে থেকে প্ল্যাকে পরিণত হয় এবং কালক্ষেপণে দাঁতের গোড়ায় পাথর তৈরি করে। ফলস্বরূপ মাড়ি থেকে রক্ত পড়ে এবং মুখে দুর্গন্ধ হয়।

করণীয়: অবশ্যই ডায়াবেটিস রোগীদের দাঁত ও মুখগহ্বর এর যত্নের প্রতি মনোযোগী হতে হবে।দুই বেলা ব্রাশ (সকালে ও রাতে খাবার পরে) করতে হবে। মাউথওয়াশ বা লবণ-গরম পানি দিয়ে কুলকুচি করতে হবে। দাঁতের ফাঁকে খাবার আটকালে ধারালো কিছু দিয়ে খোঁচাখুঁচি করা যাবে না, এতে প্রদাহের মাত্রা বাড়তে পারে। বরং সুতা বা ডেন্টাল ফ্লস ব্যবহার উত্তম।যেকোনো ডেন্টাল চিকিৎসাসেবা নেয়ার আগে ডাক্তারকে অবশ্যই ডায়াবেটিস পরীক্ষা করে ফলাফল জানাতে হবে এবং ডাক্তারের পরামর্শমতো চিকিৎসা গ্রহণ করতে হবে।দাঁত খুবই গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ।

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে না রেখে অকালে দাঁত হারিয়ে মানসিকভাবেও অনেকে ভেঙে পড়েন। সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে হলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ অত্যাবশ্যক। প্রতি ৬ মাস অন্তর অন্তর ডেন্টাল চেকআপ খুবই জরুরি। এবং দাঁত ও মুখের যত্নে অবশ্যই একজন বিএমডিসি কর্তৃক রেজিস্ট্রেশনপ্রাপ্ত বিডিএস ডাক্তারকে দেখাবেন।ডা. আঁখি আক্তার আন্নী রেজিস্টার্ড ডেন্টাল সার্জন কনসালটেন্ট-ক্লিনিকা ডেন্টাল কেয়ার হেলথমেন, বিএমডিসি-৯০৭৪

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *