ড. জাফরুল্লাহ জীবন ঘুরিয়ে দেন এক রিকশাচালক

জাতীয়

‘দেশ স্বাধীন হবার পর আমি ঝগড়া করতে করতে ক্লান্ত হয়ে যাই। তখন ভেবেছিলাম দেশ ছেড়ে চলে যাবো। চলে যাবার জন্যে রিকশায়ও চড়েছিলাম। রিকশায় যেতে যেতে রিকশাওয়ালার সঙ্গে গল্প করছি। তখন রিকশাওয়ালা আমাকে জিজ্ঞেস করলো, স্যার, আপনি কি করেন? বললাম ডাক্তারি। রিকশাওয়ালা বললো, কই যাবেন? আমি বললাম, দেশ ছেড়ে চলে যাবো। তখন রিকশাওয়ালা বললো, আপনারা তো চলে যেতে পারবেন।

আমরা কই যাবো? এই দেশে তো আমাদের থাকতে হবে। আমাদের কি হবে? তখন আমার মনে হলো, তাই তো! আমি না হয় চলে যাবো, আমার সব আত্মীয়-স্বজন তো যেতে পারবে না। গরিব আত্মীয়-স্বজনরা তো থেকে যাবে। তাহলে আমার যাওয়ার কোনো প্রশ্নই আসে না!এক ভিডিও সাক্ষাতকালে রিকশাওয়ালার মাধ্যমে নিজের জীবন পাল্টে যাওয়া গল্প শোনালেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী।

জহিরুল হক মিলু নামে এক সাংবাদিক এ সাক্ষাতকারটি গ্রহণ করেছেন। ওই সাংবাদিক ড. জাফরুল্লাহ চৌধুরীকে প্রশ্ন করেন, আপনি কি কখনো হতাশ হয়েছেন? এমন প্রশ্নের উত্তরেই এসব কথা বলেন এই মুক্তিযোদ্ধা।শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সাংবাদিক জহিরুল হক মিলুর সঙ্গে এক আলাপচারিতায় তিনি তার ব্যক্তিগত জীবনের স্মৃতিচারণ করেন। সেখানে উঠে এসেছে সাধারণ জীবন-যাপনের নানা দিক।

ওই সাংবাদিক তার নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে সেই ভিডিও আপলোড করেন। পরবর্তীতে সেই ভিডিওটি ভাইরাল হয়।বাংলাদেশের খুব পরিচিত একটি নাম ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। তবে, দেশের রাজনীতিতে তিনি বরাবরেই সমালোচিত। তিনি ৭১’র রণাঙ্গনে ফিল্ড হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করে যেমন প্রাণ বাঁচিয়েছেন অসংখ্য আহত ও অসুস্থ মুক্তিযোদ্ধার।

জাতির যেসব সূর্যসন্তান আজকের এই স্বাধীন, সার্বভৌম বাংলাদেশ গড়ার নেপথ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন এবং রাজনীতির বুদ্ধিবৃত্তিক অঙ্গনে ভূমিকা রেখে যাচ্ছেন তাদের অন্যতম তিনি।তিনি চাইলে হতে পারতেন দেশসেরা সার্জন। নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারতেন চিকিৎসাখাতের প্রধান ব্যবসায়ী। কিন্তু ভিন্নভাবে গড়ে ওঠা এক লড়াকু মানুষ ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। স্বাধীন দেশে নিজেকে নিয়োজিত করেছেন গণমানুষের স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়নে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *