দরিদ্র প্রসূতির পাশে মানবিক চিকিৎসক

জাতীয়

আর্থিক সঙ্গতি নেই এমন একজন প্রসূতি মাকে মানবিক চিকিৎসা সেবা দিয়ে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন চাঁদপুরের এক চিকিৎসক। এতে মোটা অঙ্কের আর্থিক খরচ থেকে রক্ষা পান ওই প্রসূতি। শুধু তাই নয়, যমজ সন্তান এবং তাদের মায়ের জন্য সবধরনের সহযোগিতা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন জেলা প্রশাসনের শীর্ষ এক কর্মকর্তাও।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চাঁদপুর শহরের প্রিমিয়ার হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে গত দুই দিন আগে এক প্রসূতি মা ভর্তি হন। পাশের জেলা শরীয়তপুরের চরাঞ্চল থেকে আসা কৃষক পরিবারের ওই প্রসূতি মার আলট্রাসোনোগ্রাফি করা হয়।এতে ধরা পড়ে তার দুটি সন্তান প্রসবের অপেক্ষায় রয়েছে। কিন্তু হাসপাতালের বিল এবং প্রয়োজনীয় ওষুধপত্রের খরচের বিষয়ে বড় দুশ্চিন্তায় পড়েন প্রসূতি ও তার স্বামী।

এক পর্যায়ে করোনা পরিস্থিতিতে জেলা প্রশাসনের গঠিত স্বেচ্ছাসেবক টিমের সদস্য মো. ওয়াসিম ও আল-আমীনের কাছে এমন সংবাদ পৌঁছে।এ সময় তারা যোগাযোগ করেন প্রিমিয়ার হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কর্ণধার ডা. মোবারক হোসেন চৌধুরী এবং চাঁদপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ জামানের সঙ্গে। স্বেচ্ছাসেবক টিমের সদস্য মো. ওয়াসিম ও আল-আমীনের কাছে প্রসূতি মা ও

তার স্বামীর আর্থিক অসঙ্গতির কথা শুনে সহযোগিতার জন্য পাশে দাঁড়ান চিকিৎসক এবং প্রশাসনের শীর্ষ এই কর্মকর্তা। এসময় তাদের সঙ্গে দুই স্বেচ্ছাসেবকও সামিল হন।খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার ওই প্রসূতি মা ফুটফুটে সুস্থ যমজ সন্তান প্রসব করেছেন। এ সময় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ শিশুদের নিয়ে নিরাপদ ও রোগমুক্ত রাখতে ইনকিউবেটরে রেখেছেন। এতে প্রসূতি মা ও তার স্বামী এমন মানবিক সহায়তা পেয়ে এখন বেজায় খুশি।

এদিকে, চাঁদপুরের স্বনামধন্য চিকিৎসক মোবারক হোসেন চৌধুরী জানান, মানুষের যেকোনো সেবা করা এক ধরনের এবাদত। অন্যদিকে, চাঁদপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ জামান জানান, মানুষের প্রয়োজনীয় চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে জেলা প্রশাসন সবসময় পাশে দাঁড়াচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *