নানা জল্পনা-কল্পনা কাটিয়ে অবশেষে মুখ খুললেন মেসি,দিলেন হৃদয় ছোঁয়া গল্প

জাতীয়

লিওনেল মেসি আরো একটি মৌসুম বার্সেলোনায় থেকে যাচ্ছেন। তার বার এবং এজেন্ট হোর্হে মেসি একথা আগেই জানিয়েছিলেন। এবার মেসি নিজেই জানালেন সেকথা।ফুটবল বিষয়ক ওয়েবসাইট গোল ডটকমকে দেয়া এক দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে আর্জেন্টাইন সুপারস্টার সম্প্রতি ক্লাবের সঙ্গে তার টানাপোড়েন নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেছেন।তার কথা উঠে এসেছে অনেক হৃদয় ছোঁয়া গল্প।

মেসি বলেন, ক্লাব ছাড়ার ইচ্ছার কথা আমি যখন স্ত্রী এবং সন্তানদের জানাই, এটা ছিলো নিষ্ঠুর একটা নাটক! পুরো পরিবার কাঁদতে শুরু করেছিলো। আমার সন্তানরা বার্সেলোনা ছাড়তে চাইছিলো না, তারা তাদের পরিবর্তন করতে চাইছিলো না।মেসি বলেন, কিন্তু আমি সামানের দিকে তাকাচ্ছিলাম এবং সর্বোচ্চ পর্যায়ে লড়াই করতে চাচ্ছিলাম, শিরোপা জিততে, চ্যাম্পিয়ন্স লিগ খেলতে চাচ্ছিলাম। আপনি এখানে (চ্যাম্পিয়ন্স লিগে) জিততেও পারেন, হারতেও পারেন। কারণ, এটা খুবই কঠিন লড়াই। তবে আপনাকে প্রতিযোগিতা করতে হবে।

মেসি জানান, তিনি ভেবেছিলেন, কোনো ঝক্কি ঝামেলা ছাড়াই ক্লাব ছাড়তে পারবেন। আর ক্লাব সভাপতি জোসেপ মারিয়া বার্তেমেউয়ের কথাতেই নাকি তিনি আশ্বস্ত ছিলেন।তিনি বলেন, পেসিডেন্ট সবসময় আমাকে বলে আসছিলেন, মৌসুমের শেষে আমি সিদ্ধান্ত নিতে পারবো, থাকবো কি না। এখন তারা বলছে, আমি ১০ জুনের আগে জানায়নি। অথচ যখন ১০ জুন আসলো তখন আমরা লা লিগার মাঝামাঝি সময়ে লড়াই করছিলাম, করোনাভাইরাসের কারণে পুরো মৌসুমটাই উল্টেপাল্টে গিয়েছিলো।

মেসি বলেন, এখন আমি থেকে যেতে চাচ্ছি কারণ, ক্লাব প্রেসিডেন্ট আমাকে বলেছেন যে, বার্সেলোনা ছাড়ার জন্য আমার একটাই উপায় আর তা হলো- ৭০০ মিলিয়ন ইউরো ক্লজ পরিশোধ করা; এবং এটা অসম্ভব।ক্লাব ছাড়ার জন্য এখন একটাই উপায় বলে জানান মেসি। সেটা হলো, আদালত। কিন্তু ভালোবাসার ক্লাবটিকে আদালতে টেনে নিয়ে কাঁদা ছোড়াছুড়ি করতে চাননি লিও। আর তাইতো নিজের ইচ্ছাকে উপেক্ষা করে আরো ১০টা মৌসুম ক্যাম্প ন্যুতে থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

‘এখানে আরেকটি উপায় ছিলো- আদালতের শুনানি। কিন্তু আমি কোনোদিনই বার্সেলোনাকে আদালতে নেবো না কারণ, এই ক্লাবটিকে আমি ভালোবাসি। আমি এখানে আসার পর থেকে এই ক্লাবটি আমাকে সবকিছু দিয়েছে।’ বলছিলেন মেসি।তিনি বলেন, ‘বার্সা আমাকের সবকিছু দিয়েছে, আমিও বার্সাকে আমার সবকিছু দিয়েছি। আমি জানি, আমার মন কখনোই বার্সাকে আদালতে নেয়ার বিষয়ে সায় দিবে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *