নারায়ণগঞ্জে মুয়াজ্জিন বাবার কাছে বেড়াতে গিয়ে পুড়ে ম’র’ল’ ছেলেও!

জাতীয়

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার তল্লার বায়তুল সা’লাত জামে ম’সজিদে বি’স্ফোরণের ঘ’টনার পর থেকে সেই ম’সজিদে আর আ’জান বা না’মাজ হয়নি। ঘ’টনার পর শনিবার এ ম’সজিদে ফ’জরের আ’জান হয়নি। অনুষ্ঠিত হয়নি না’মাজও। এর আগে শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) ভ’য়াবহ বি’স্ফোরণের পর এখন পর্যন্ত ১৬ জন মা’রা গেছেন।অন্য দিনের মতই স্বাভাবিক চলছিল ফতুল্লার তল্লা এলাকাটি। কিন্তু শুক্রবার রাতের এক দু’র্ঘটনা কাঁ’দিয়ে তুলে সকলকে। ম’সজিদের ভেতরে ভ’য়াবহ বি’স্ফোরণে অন্তত অর্ধশত মুসল্লী দ’গ্ধের ঘ’টনায় কাঁদছে পুরো তল্লার লোকজন। চোখের পানি ফেলছে নারায়ণগঞ্জবাসী।এছাড়া বিভিন্ন এলাকা থেকেও সহমর্মিতা জানাচ্ছে সাধারণ মানুষ। এ দু’র্ঘটনা কেউ মেনে নিতে পারছে না। ম’সজিদের ভেতরের এ দু’র্ঘটনার পেছনে যাদের গাফিলতি রয়েছে তাদের ক’ঠোর শা’স্তি দা’বি করেছে এলাকাবাসী।

শুক্রবার রাত পৌনে ৯টায় ম’সজিদের এয়ার কন্ডিশনার বি’স্ফোরণে এ হতাহতের ঘ’টনা ঘ’টে। পরে সেখানে ট্রান্সফরমার বি’স্ফোণের বিষয়টি যুক্ত করেন স্থানীয় ১১নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর জমশের আলী ঝন্টু। কিন্তু রাতে ত’দন্তে বেরিয়ে আসে ভিন্ন তথ্য। ফা’য়ার সার্ভিস জানায় সেখানে তিতাস গ্যাসের কারণেই ঘ’টে দু’র্ঘটনা।ম’সজিদ কমিটির সভাপতি গফুর মেম্বারের ভাই আবুল কাশেম জানান, ম’সজিদের ই’মাম-মুয়াজ্জিনসহ অনেকেই দ’গ্ধ হয়েছেন। খবর পেয়েছি, মুয়াজ্জিন মা’রা গেছেন। এখনো ম’সজিদে ধ্বং’সাবশেষ ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। এ অবস্থায় এখনো এ ম’সজিদে না’মাজ হয়নি।শুধু মুয়াজ্জিনই নয় শুক্রবার রাত সাড়ে আটটার দিকে বায়তুস সা’লাত জামে মস’জিদে বি’স্ফোরণের ঘ’টনায় মুয়াজ্জিন বাবার কাছে বেড়াতে এসে একসাথে লা’শ হলেন ছেলেও। মুয়াজ্জিনের নাম দেলোয়ার হোসেন (৪৫)। তার গ্রামের বাড়ি কুমিল্লা জে’লায়।

তিনি ম’সজিদের মেসেই থাকতেন। তার ছেলে জুনায়েদও এই বি’স্ফোরণে মা’রা গেছেন। ছেলে জুনায়েদ শুক্রবারে বাবার কাছে বেড়াতে এসেছিলেন। জুনায়েদ নারায়ণগঞ্জের একটি আলিয়া মা’দ্রাসায় পড়তো। জানা যায়, কাল রাতে একসাথে এ’শার না’মাজ আদায় করছিল বাবা ছেলে।বি’স্ফোরণের পর সবচেয়ে বেশি খা’রাপ অবস্থা ছিলো দেলোয়ার হোসেনের। শনিবার সকালে মা’রা যান তিনি। আর দুপুরে মা’রা গেছেন ছেলে জুনায়েদ (২৮)। ম’সজিদের মুয়াজ্জিন দেলোয়ার হোসেনের বাড়ি কুমিল্লার নাঙ্গলকোটের ঢালুয়া ইউনিয়নের বদরপুর গ্রামে।তিনি দীর্ঘ দিন ধরে ওই ম’সজিদের মুয়াজ্জি’নের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। তার ও তার ছেলের মৃ’ত্যু খবর নাঙ্গলকোটে পৌঁছালে স্বজনদের মাঝে আহাজারি শুরু হয়। স্থানীয়দের মাঝে শো’কের ছায়া নেমে আসে।

প্রত্যক্ষদ’র্শীরা জানান, পৌনে ৯টায় বিকট শ’ব্দে বি’স্ফোরণ ঘ’টে। মুহূর্তেই ম’সজিদের ভেতরে আ’গুন ছ’ড়িয়ে পড়ে। ওই সময়ে ম’সজিদে থাকা মুস’ল্লীদের গায়ে আ’গুনের ফুলকি গিয়ে পড়লে একে একে দ’গ্ধ হতে থাকে। ম’সজিদের ভেতর থেকে আসতে থাকে মুস’ল্লীদের আ’ত্মচিৎ’কার। পরে আশেপাশের লোকজন দিয়ে তাদের উ’দ্ধার করে। তাদের অনেকের শরীরের কাপড় ছিল না।দু’র্ঘটনার পর সেখানে দেখা গেছে, ম’সজিদের ভেতরের কয়েকটি স্থানেই প্রচুর পানি জমে ছিল। এসব পানিতে র’ক্ত ছিল। লাল হয়ে ছিল পানি। প্রত্যক্ষদ’র্শীরা আরো বলেন, বিকট শ’ব্দে বি’স্ফোরণের পর বি’দ্যুৎ চলে যায়। তখন ম’সজিদ থেকে একে একে মুস’ল্লীরা খালি গায়ে দ’গ্ধ হয়ে বের হতে থাকে।

‘বাঁ’চাও বাঁ’চাও’ চিৎ’কার করে একে একে বেরিয়ে আসতে থাকে। তাদের চিৎকারে সেখানে হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃ’ষ্টি হয়। পরে একে একে মুস’ল্লীদের রিকশায় করে দ্রুত হাসপাতালে নেয়া হয়। স্থানীয়রা জানান, পৌনে ৯টায় বিকট শব্দে বি’স্ফোরণ ঘ’টে।মুহূর্তের মধ্যে ম’সজিদের ভেতরে থাকা ৩০ থেকে ৪০ জনের মধ্যে আ’তংক ছ’ড়িয়ে পড়ে। হুড়োহুড়ি করে বের হয় লোকজন। তাদের অনেকেই দ’গ্ধ ও আ’হত ছিল। ম’সজিদের ভেতরে এক ধং’সস্তূপে পরিণত হয়েছে। ম’সজিদের জানালার সব গ্লাসগুলো ভা’ঙ্গা ছিল।

ভেতরে কয়েকটি চেয়ার ছিল ভা’ঙাচোরা। ফ্যানগুলোও বাকা হয়ে যায়। ভেতরে থাকা দেড় ও দুই টনের ছয়টি এসির সবগুলো বি’স্ফোরণ ঘ’টে ভেতরের যন্ত্রাংশ বেরিয়ে গেছে। ম’সজিদের ভেতরে ফ্লোরের কিছু স্থানে র’ক্তের পানি দেখা গেছে। নারায়ণগঞ্জ ১০০ শয্যা হাসপাতালের জ’রুরী বিভাগের ডাক্তার নাজমুল হোসেন জানান, রাত ৯টা হতে একের পর এক রোগী আসছিল। তাদের সকলের নাম লিপিবদ্ধ করা হয়নি। যেসব রোগী এসেছে তাদের ৭০ থেকে ৭৫ ভাগ দ’গ্ধ হয়েছে। তাদের দ্রুত প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ঢাকা পাঠানো হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *