পরবর্তী মহামারির জন্য প্রস্তুত থাকতে বলল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

জাতীয়

মহামারি ক-রোনা ভা-ইরাসের তা-ণ্ডব থেকে এখনও মুক্তি পায়নি পৃথিবী। এর থাবায় বিপর্যস্ত বিশ্বের বহু দেশের মানুষের জীবনযাত্রা। বিশ্বের একটা বড় অংশের মানুষের আর্থসামাজিক অবস্থা একপ্রকার পুরোপুরি বদলে দিয়েছে এই মহামারী। এরইমধ্যে নতুন সতর্কতা নিয়ে হাজির হয়েছে বিশ্ব স্বা-স্থ্য -সং-স্থা। তারা বলছে, বিশ্ববাসীকে এখনই পরবর্তী মহামারীর জন্য প্র-স্তুত হতে হবে। যাতে পরবর্তী মহামারী এলে আমরা আরও ভালভাবে তার মোকাবিলা করতে পারি।

বিশ্ব স্বা-স্থ্য সং-স্থার প্রধান টেড্রোস আধানম গেব্রি-য়েসুস বলছেন, ‘এটাই শেষ মহামারি নয়। ইতিহাস আমাদের শি-ক্ষা দিয়েছে বারবার মহামারির আগমন খুবই স্বা-ভাবিক -ঘ-টনা। তাই আমাদের এখন থেকে প্র-স্তুতি নিতে হবে। যাতে এরপর যখন মহামারি আসবে, তখন আমরা এর চেয়ে বেশি প্র-স্তুত থাকতে পারি।’বিশ্ব স্বা-স্থ্য সংস্থার প্রধান এখন থেকেই দেশগু-লিকে জনস্বা-স্থ্যে জোর দিতে অনুরোধ করেছেন। তিনি বলছেন, ‘জনস্বা-স্থ্য সামাজিক, অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিক সু-স্থি-রতার ভিত্তি। তাই জনস্বা-স্থ্যে খরচ করার অর্থ হল আরও সুস্থ এবং সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের ভিত তৈরি করা।’বিশ্ব স্বা-স্থ্য সং-স্থার প্রধান বিশ্বের সব দেশের কাছে অনুরোধ করে বলেছেন, ‘দয়া করে স্বাস্থ্য ব্যব-স্থায় আরও বেশি বেশি করে বিনিয়োগ করুন। বিশেষ করে প্রাথমিক স্বা-স্থ্যে। যাতে আমরা নতুন কোন রোগ সহজেই শনাক্ত করতে পারি। এবং তা প্রতিরোধ করতে পারি।’

ক-রোনা মোকা-বিলায় বহু দেশের প্রস্তুতি নিয়ে একাধিক প্রশ্ন উঠেছে। প্রশ্ন উঠেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ভূমিকা নিয়েও। তাই পরবর্তী ক্ষেত্রে যাতে এমনটা না হয়, তা নি-শ্চিত করতে চাইছে বিশ্ব স্বা-স্থ্য সং-স্থা। করোনার আগে সোয়াইন ফ্লু, জিকা ভা-ইরাস, পোলিও সংক্র-মণ এবং দু’বার ইবোলা সংক্র-মণের সময়ে বিশ্বজুড়ে স্বা-স্থ্যক্ষেত্রে জরুরি অ-বস্থা জারি করেছিল বিশ্ব স্বা-স্থ্য সংস্থা। কিন্তু কোন ক্ষে-ত্রেই পরি-স্থিতি এতটা ভয়াবহ হয়নি। এ বছর করোনার প্রকোপ অন্য সব মহামারীর মিলিত ক্ষ-তিকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে, এই আশ-ঙ্কায় প্রহর গুনছে বিশ্ববাসী। এর মধ্যে আবার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে আগামী মহা-মারি হবে আরও ভয়ংকর।

উল্লেখ্য, বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ২ কোটি ৭৭ লাখ ৩৮ হাজার ছাড়িয়েছে। আর এ মহামারিতে আক্রান্ত হয়ে বিশ্বে মৃতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৯ লাখ।করোনা ভাইরাসে আক্রান্তদের সংখ্যা ও প্রাণহানির পরিসংখ্যান রাখা ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডওমিটারের তথ্যানুযায়ী, বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকাল পর্যন্ত বিশ্বের বিভিন্ন দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ৯ লাখ ১ হাজার ৮৬৯ জনের এবং আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৭৭ লাখ ৩৮ হাজার ৯৭১ জনে। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১ কোটি ৯৮ লাখ ৩২ হাজার ৬৯০ জন।

বিশ্বে এখন পর্য-ন্ত করোনায় আ-ক্রা-ন্ত হয়ে সবচেয়ে বেশি মৃ-ত্যু হয়েছে যু-ক্তরাষ্ট্রে ১ লাখ ৯৪ হাজার ৩২ জন। বিশ্বে সর্বো-চ্চ আ-ক্রা-ন্তের সংখ্যাও এই দেশটিতে। এ নিয়ে এখানে ৬৫ লাখ ১৪ হাজার ২৭১ জন এখন পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন।আক্রান্তের সংখ্যায় দ্বিতীয় অবস্থানে এবং মৃ-তের সংখ্যায় তৃ-তীয় অব-স্থানে আছে ভারত। দেশটিতে এখন পর্য-ন্ত আ-ক্রা-ন্ত হয়েছেন ৪৩ লাখ ৭০ হাজার ১২৮ জন। এবং এখন পর্য-ন্ত মারা গেছেন ৭৩ হাজার ৯২৩ জন।করোনা আক্রান্তে তৃতীয় ও মৃতের সংখ্যায় দ্বিতীয় অবস্থানে আছে ব্রা-জিল। দেশটিতে এখন প-র্যন্ত এ ভাইরাসে আ-ক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ১ লাখ ২৭ হাজার ৫১৭ জন। আ-ক্রান্ত হয়েছেন ৪১ লাখ ৬৫ হাজার ১২৪ জন।

আ-ক্রা-ন্তের দিক থেকে চতুর্থ অবস্থানে আছে রাশিয়া। দেশটিতে আ-ক্রান্ত ১০ লাখ ৩৫ হাজার ৭৮৯ জন। আর মৃ-তের সংখ্যা ১৭ হাজার ৯৯৩ জন।সুস্থ-তার দিক থেকেও প্রথম অবস্থানে আছে যু-ক্তরাষ্ট্র (৩৭ লাখ ৯৬ হাজার ৭৬০ জন), দ্বি-তীয় অব-স্থানে আছে ভারত (৩৩ লাখ ৯৮ হাজার ৮৪৪ জন), এবং তৃ-তীয় অব-স্থানে আছে ব্রাজিল (৩৩ লাখ ৯৭ হাজার ২৩৪ জন)।গত বছরের ডিসেম্বরের শেষ দিকে চীনের হু-বেই প্রদেশের উহান থেকে করোনাভাইরাস সং-ক্রমণ শু-রু হয়। এখন পর্য-ন্ত বাংলাদেশসহ বিশ্বের ২১৫টি দেশে ও অ-ঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে কোভিড-১৯।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *