পা’লিয়ে গিয়ে সব ফাঁ’স করছেন রো’হিঙ্গা গণ’হ’ত্যায় জ’ড়িত দুই সেনা সদস্য

জাতীয়

২০১৭ সালে রাখা’ইনে রো’হিঙ্গা গণ’হ’ত্যা, ধ’র্ষ’ণ এবং তাদের বাড়ি-ঘরে অ’গ্নিসং’যোগের ঘটনা স্বীকার করেছেন মিয়ানমার সেনাবাহিনী থেকে পা’লিয়ে যাওয়া দুই সৈনিক। তারা নিজেদের ব্যাটালিয়ন, কমান্ডিং অফিসারের পরিচয় দিয়েছেন। একই সঙ্গে নিজেদের নানা অপ’রাধের ঘটনাও বর্ণনা করেন মিয়ানমার সেনাবাহিনীর এ দুই সৈনিক।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্ক টাইমস এবং কানাডিয়ান ব্রডকাস্টিং করপোরেশন-সিবিসি ও একটি মানবাধিকার সংস্থা এ তথ্য জানিয়েছে। মিয়ানমার সেনাবাহিনীর সৈনিক পরিচয় দেয়া দুই ব্যক্তি এখন নেদারল্যান্ডসের হেগে রয়েছেন। গণমাধ্যমে উল্লেখ করা হয়েছে, তাদেরকে মিয়ানমারের বি’রুদ্ধে রো’হিঙ্গা গণ’হ’ত্যা মা’মলার সাক্ষী হিসেবে আন্ত’র্জাতিক অপ’রাধ আদা’লতে হাজির করা হতে পারে।

৩০ বছরের জাও নাইং তুন এবং ৩৩ বছরের মিও উইন তুনকে প্রথম দেখা যায় মিয়ানমারের সশ’স্ত্র গোষ্ঠী আরা’কান আর্মির ইউটিউব চ্যানেলে । এ বছরের ২২ মে এই দুইজনসহ মোট চারজনকে দেখা যায় মিয়ানমার আর্মির পোশাক পরে বসে থাকতে। চারজনই দাবি করেন, নানা নি’র্যাত’নের শি’কার হয়ে তারা মিয়ানমার সেনাবাহিনী থেকে পালি’য়েছেন।তবে, কীভাবে এবং কার তত্ত্বাবধায়নে তারা হেগে পৌঁছালো-বিষয়গুলো নিশ্চিতভাবে উল্লেখ করা হয়নি।

এই দুই সেনা সদস্য আরকান আর্মির হাতে ব’ন্দি হয়েছিলেন বলেও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। এ বিষয়ে খিন থু খা নামের আরাকান আর্মির এক মুখপাত্র বলেন, দুই ব্যক্তিকে সেনা বাহিনী থেকে বা’দ দেয়া হয়, তাদের যু’দ্ধব’ন্দি হিসেবে আ’টক করা হয়নি। তবে তারা এখন কোথায় আছে তা নিয়ে কোনো মন্তব্য করেননি তিনি।২০১৭ সালে একটি পুলিশ চৌকিতে হা’ম’লার জেরে মিয়ানমারে রোহি’ঙ্গাদের ওপর গণহ’ত্যা চালানো হয় বলে অভি’যোগ ওঠে দেশটির সেনাবাহিনীর বি’রু’দ্ধে।

সেই সময় বাংলাদেশে পা’লিয়ে আসেন লাখ লাখ রোহি’ঙ্গা। বর্তমানে বিষয়টি নিয়ে আন্ত’র্জাতিক আদা’লতে বিচারা’ধীন।মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর কর্তৃক হ’ত্যা, ধ’র্ষ’ণ, বাড়িঘরে অ’গ্নিকা’ণ্ডের হাত থেকে পা’লিয়ে বাঁচতে ২০১৭ সালের আগস্ট মাসের শেষ দিক থেকে পরবর্তী কয়েক মাস ধরে প্রায় দশ লাখের মতো রোহি’ঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়।এর আগে ৭০’র দশক থেকে শুরু করে আরও কয়েক লাখ রোহিঙ্গা নানা সময়ে পা’লিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে।

তবে সবচেয়ে বড় ঢল ছিল ২০১৭ সালে। কক্সবাজারের উখিয়াতে কুতুপালং রোহিঙ্গা শিবির বিশ্বের সবচাইতে বড় শরণার্থী শিবির। উখিয়াতে রোহিঙ্গাদের সংখ্যা স্থানীয় জনগোষ্ঠীকেও ছাড়িয়ে গেছে।গত বছরের ১১ নভেম্বর আন্তর্জাতিক বিচারিক আ’দালত আইসিজিতে মিয়ানমারের বি’রু’দ্ধে গণ’হ’ত্যার অভি’যোগে মা’মলা করে পশ্চিম আফ্রিকার দেশ গাম্বিয়া। মা’ম’লায় বলা হয়, মিয়ানমার রোহি’ঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর গণ’হ’ত্যা, ধ’র্ষ’ণ এবং সাম্প্র’দায়িক নি’ধন চালিয়েছে দেশটির সেনাবাহিনী।

পরে মিয়ানমারের বি’রু’দ্ধে রোহি’ঙ্গা গণ’হ’ত্যা নিয়ে ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিস- আইসিজে গাম্বিয়ার করা মা’ম’লার শুনানিতে দেশের হয়ে লড়তে নেদারল্যান্ডসের হেগে যান মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সিলর অং সান সু চি। সেই বিচারকাজ এখনো চলছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *