প্রধানমন্ত্রীকে ফোন করবেন জোবাইদা!

জাতীয়

জামিন এবং বিদেশ যাওয়া নিয়ে অর্ধেক তৃপ্তি হয়েছে বেগম জিয়া পরিবারের। বেগম জিয়া পরিবার আশা করেছিল যে, বেগম খালেদা জিয়ার শুধু জামিনের মেয়াদ বৃদ্ধি করা হবেনা, তাকে বিদেশ যাওয়ারও অনুমতি দেওয়া হবে। কিংবা তার বিদেশ যাওয়ার ক্ষেত্রে যে শর্তারোপ করা ছিল তা তুলে নেওয়া হবে।

কিন্তু বেগম খালেদা জিয়ার জামিনের মেয়াদ বৃদ্ধি সংক্রান্ত যে সুপারিশ আইন মন্ত্রণালয় করেছে, সেই সুপারিশ পূর্বের শর্তেই বহাল থেকেছে। অর্থাৎ তাকে বাসায় বসেই চিকিৎসা নিতে হবে এবং তিনি বিদেশ যেতে পারবেন না। এই জামিনের মেয়াদ আরও ৬ মাস এই শর্তেই বৃদ্ধি করা হয়েছে।

বেগম জিয়ার পরিবারের সূত্রে জানা গেছে যে, বেগম খালেদা জিয়াকে তারা উন্নত চিকিৎসার জন্যে বিদেশ নিতে আগ্রহী, কিন্তু বিদেশে নেওয়ার ক্ষেত্রে কিছু আনুষ্ঠানিকতা রয়েছে এবং কিছু বাস্তবতা রয়েছে। আর এই সমস্ত বাস্তবতা-আনুষ্ঠানিকতার জন্যেই বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষে তার ছোটভাই শামীম এস্কান্দার যে আবেদন করেছিল, সেই আবেদনে বিদেশ যাওয়ার অনুমতি চাওয়া হয়নি।

বেগম জিয়ার পরিবারের একজন সদস্য বলেছিলেন যে, আমরা প্রথম যেটা পেয়েছি যে, ৬ মাসের জন্যে তার জামিনের মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়েছে। এখন চিকিৎসক প্যানেল বেগম খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করবেন এবং তারা একটি আনুষ্ঠানিক রিপোর্ট প্রদান করবেন যে, খালেদা জিয়ার যে অসুস্থতা তা কি ধরণের এবং এই অসুস্থতার জন্যে কি চিকিৎসা দরকার, এই চিকিৎসা বাংলাদেশে কেন সম্ভব নয় ইত্যাদি।

উল্লেখ্য যে, বেগম খালেদা জিয়ার পুরো বিষয়টি তদারকি করছেন তারেক জিয়ার স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমান। জোবাইদা রহমান বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে টেলিফোনে যোগাযোগ রাখছেন, চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলছেন এবং তার প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসা চলছে বলে জানা গেছে।

আর এই বাস্তবতায় আগামী কয়েকদিনের মধ্যে চিকিৎসক প্যানেলের সঙ্গে ডা. জোবাইদা রহমান বৈঠক করবেন এবং এই বৈঠকের পর বেগম খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্যে বিদেশে নেওয়ার ব্যাপারে আনুষ্ঠানিক মতামত দেবে বেগম খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক প্যানেল। আর এই মতামত সরকারকে কিভাবে জানানো হবে তা নিয়ে এখনো কোন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন বেগম খালেদা জিয়ার পরিবারের সদস্যরা।

তারা বলছেন যে, দুই ধরনের বিকল্প চিন্তা নিয়ে তারা ভাবছেন। প্রথমত, তারা বেগম খালেদা জিয়ার জামিনের আবেদন বৃদ্ধি সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনটি হাতে পাওয়ার পর দ্বিতীয় আবেদনটি করবেন এবং সেখানে তারা চিকিৎসকদের মতামত, রিপোর্ট ইত্যাদি আনুসাঙ্গিক কাগজপত্রসহ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বিদেশে চিকিৎসার জন্যে আবেদন করবেন। এই আবেদনের প্রেক্ষিতে হয়তো স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রধানমন্ত্রীর অনুমতি সাপেক্ষে পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।

বেগম খালেদা জিয়ার পরিবারের সদস্যরা বলছেন, তাদের সামনে দ্বিতীয় বিকল্প হচ্ছে, এরকম আনুষ্ঠানিক আবেদন না করে সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এই ব্যাপারে কথা বলবে। এই ক্ষেত্রে বেগম জিয়ার পরিবারের সদস্যরা ডা. জোবাইদা রহমানকে দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করাতে চাইছেন। ডা. জোবাইদা রহমান যেহেতু একজন চিকিৎসক, কাজেই তিনি প্রধানমন্ত্রীকে বিষয়টি বোঝাতে পারবেন বলেও বেগম জিয়ার পরিবারের সদস্যরা মনে করছেন।

বেগম জিয়ার পরিবারের একজন সদস্য বলেছেন যে, প্রধানমন্ত্রীকে জোবাইদা অনুরোধ করবেন যে কি কি স্বাস্থ্যগত কারণে উন্নত চিকিৎসার জন্যে খালেদা জিয়াকে বিদেশে নেওয়া প্রয়োজন। আর এটা করা গেলেই সবচেয়ে ভালো হয়। কারণ বেগম খালেদা জিয়ার পরিবারের অনেক সদস্য এবং বিএনপির কেউই আনুষ্ঠানিকভাবে যে বেগম খালেদা জিয়া বিদেশে যাওয়ার আবেদন করুক তা চাচ্ছে না।

বিএনপির একজন নেতা বলেছেন যে, এই আবেদন করা হবে মর্যাদাহীন। তবে বেগম খালেদা জিয়ার পরিবারের সদস্যরা বলছেন, বিএনপি আসলে কিছুই জানে না এবং তারা না জেনে কথা বলছে। যে আবেদনটি করা হয়েছে বা ভবিষ্যতে করা হবে বা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হবে তা সম্পূর্ণভাবে বেগম জিয়ার পরিবার এবং সরকারের বিষয়।

বিএনপি এই বিষয়ে কিছুই জানে না এবং তাদের কাছে এই ব্যাপারে কোন তথ্য নেই। তারা যে ব্যাপারে মন্তব্যগুলো করছে তাতে খালেদা জিয়ার বিদেশ যাওয়ার ক্ষেত্রে বাঁধা সৃষ্টি হতে পারে বলে বেগম জিয়ার পরিবারের সদস্যরা মনে করছেন।তাই এই বিষয়টি নিয়ে বিএনপির নাক গলানো পছন্দ করছেন না খালেদা জিয়া, এমনকি বেগম খালেদা জিয়ার পরিবারের সদস্যরাও। তারা মনে করছেন যে, তারা একটি সুষ্ঠ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এগোচ্ছেন এবং সরকার বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ব্যাপারে অনেক উদার এবং মহানুভবতার পরিচয় দিচ্ছেন। সূত্র: বাংলা ইনসাইডার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *