বিমানে চড়তে বাড়তি ফি আর ভ্যাট দিতে হবে ‘১০৭৪.৬১’ টাকা

আন্তর্জাতিক

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ দেশের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক সব বিমানবন্দরে যাত্রীদের আগামী ১ আগস্ট থেকে যাত্রী নিরাপত্তা ও বিমানবন্দর উন্নয়ন ফি দিতে হবে। ২২ জুলাই বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) এ সংক্রান্ত আদেশ জারি করেছে।তবে এ বাড়তি ফি এর উপর ভ্যাট (মূসক) দিতে হবে। ২৮ জুলাই জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এ সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করেছে। ফলে বিমানে চড়তে যাত্রীদের মূসকসহ ১০৭৪.৬১ টাকা বাড়তি অর্থ গুনতে হবে।

দেশে প্রথমবারের মতো যাত্রীদের কাছ থেকে এ ফি নেওয়া হচ্ছে। এর আগে বাংলাদেশে এ ধরনের কোন ফি নেওয়া হতো না। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিমানবন্দর ও যাত্রী নিরাপত্তা উন্নয়ন ফি নেওয়া হয়। বাংলাদেশের বিমানবন্দর ও যাত্রী সেবার মানোন্নয়নে এ টাকা ব্যয় করা হবে। এর আগে এ নিয়ে কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের সাথে বৈঠক করে বেবিচক। তাদের অনুমোদনক্রমে এ আদেশ জারি করা হয়েছে।‌বেবিচকের পরিচালক (অর্থ) মোহাম্মদ মোয়াজ্জেম হোসেন সই করা আদেশে বলা হয়, ১ আগস্ট যাত্রীদের কাছ থেকে এ ফি আদায় করা হবে। আদেশটি দেশি-বিদেশি এয়ারলাইন্সগুলোকে পাঠনো হয়েছে।

ওই আদেশ বলা হয়, বেসামরিক বিমান চলাচলের ক্ষেত্রে হযরত শাহজালালসহ দেশের সব বিমানবন্দরে দেশ-বিদেশে ভ্রমনকারী যাত্রীদের নিরাপত্তা ও বিমানবন্দরগুলোর অবকাঠামোগত উন্নয়ন ফি দিতে হবে। এক্ষেত্রে দেশের অভ্যন্তরীণ যাত্রীদের প্রতিবার ভ্রমণে উন্নয়ন ফি ১০০ টাকা ও যাত্রী-নিরাপত্তা ফি দিতে হবে ৭০ টাকা। তবে সার্কভুক্ত দেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে বিমানবন্দর উন্নয়ন ফি দিতে হবে ৫ ডলার ও যাত্রী-নিরাপত্তা ফি দিতে হবে ৬ ডলার। সার্কভুক্ত ছাড়া অন্য দেশের ক্ষেত্রে বিমানবন্দর উন্নয়ন ফি ১০ ডলার ও নিরাপত্তা ফি দিতে হবে ১০ ডলার।

হিসাবমতে, বিমানবন্দর উন্নয়ন ফি ৫ ডলার বা ৪২৪ টাকা ৭৫ পয়সা (প্রতি ডলার ৮৪.৯৫ টাকা) এবং যাত্রী নিরাপত্তা ফি ৬ ডলার বা ৫০৯.৭০ টাকা দিতে হবে। টাকায় দুই খাতে মোট ৯৩৪.৪৫ টাকা বাড়তি দিতে হবে। এর উপর ১৫ শতাংশ হারে মূসক ১৪০.১৬ টাকা। মূসকসহ প্রতি যাত্রীকে বাড়তি দিতে হবে ১০৭৪.৬১ টাকা।

বেবিচকের আদেশ ও এনবিআরের এ সংক্রান্ত বিধি-বিধান পর্যালোচনা করে দ্বিতীয় সচিব কাজী রেজাউল হাসান সই করা আদেশ জারি করা হয়েছে। যাতে বলা হয়, পর্যালোচনায় দেখা যায়, মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২ এর ধারা ২ এর উপধারা (২১) অনুযায়ী বেবিচক উৎসে কর কর্তনকারী সত্তা হিসেবে বিবেচিত।

এছাড়া, এনবিআরের প্রজ্ঞাপন (আদেশ-১৪৯-আইন/২০২০/১১০-মূসক, ১১ জুন) মোতাবেক জারিকৃত উৎসে মূল্য সংযোজন কর কর্তন ও আদায় বিধিমালা, ২০২০ এর বিধি ২(খ) অনুযায়ী ‘উৎসে কর্তনকারী সত্তা’ অর্থ কোনো সরকার বা উহার কোনো মন্ত্রণালয়, বিভাগ বা দপ্তর, আধা-সরকারি বা স্বায়ত্বশাসিত কোনো সংস্থা, রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় কর্তৃপক্ষ, পরিষদ বা অনুরূপ কোনো ব্যাংক, বিমা কোম্পানি বা অনুরূপ আর্থিক প্রতিষ্ঠান, মাধ্যমিক বা তদুর্ধ্ব পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং কোনো লিমিটেড কোম্পানি।

তাছাড়া এ বিধিমালার বিধি-৩ এর উপ বিধি (৫) অনুযায়ী সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠান এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষ লাইসেন্স প্রদান বা নবায়নকালে বা ক্ষেত্র বিশেষে কোনো সুবিধা সৃষ্টিকারী সেবার ক্ষেত্রে এ সুবিধা গ্রহণকারী ব্যক্তির নিকট হতে প্রাপ্ত সমুদয় অর্থের উপর ১৫ শতাংশ হারে মূসক কর্তন করার বিধান রয়েছে।

আরও বলা হয়, বিধান অনুযায়ী বেবিচক কর্তৃক ধার্যকৃত ‘বিমানবন্দর উন্নয়ন ফি’ ও ‘যাত্রী নিরাপত্তা ফি’ এর উপর ১৫ শতাংশ হারে মূসক প্রযোজ্য। রাজস্ব আহরণের স্বার্থে ১ আগস্ট থেকে কার্যকর হতে যাওয়া এ আদেশ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সকল কাস্টমস হাউস ও ভ্যাট কমিশনারকে অনুরোধ জানানো হয়।

এ বিষয়ে বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ারভাইস মার্শাল মো. মফিদুর রহমান বলেছেন, ‘বিমানবন্দরগুলোতে আগামী ১ আগস্ট থেকে যাত্রীদের কাছ থেকে এ ফি আদায় করা হবে। সরকারের সিন্ধান্তে এ ফি আদায়ের নির্দেশনা দেওয়া হয়। এতে করে বেবিচকের রাজস্ব আয় বাড়বে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *