বিশ্বে চলছে আর্থিক মন্দা: অতীতের সব রেকর্ড ভাঙবে সোনার দাম!

জাতীয়

করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে লকডউন আর তার জেরে সারা পৃথিবীতে দেখা দিয়েছে চলছে আর্থিক মন্দা। কোনও সংস্থা এই মুহূর্তে কোন রকম বিনিয়োগ করতে ইচ্ছুক নয়। অপরদিকে, এই মন্দার সময়ে আগামী ২ বছরে সোনার দাম আউন্স প্রতি সাড়ে ৩ হাজার ডলার হতে পারে। এমনটাই মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।

তারা বলছেন, চলতি সপ্তাহেই বিনিয়োগের নিরাপদ এ মাধ্যমের মূল্য সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। শিগগিরই তা অতীতের সব রেকর্ড ভাঙ্গবে। গত সোমবার বিশ্ববাজারে প্রতি আউন্স সোনার দর ছিলো ১ হাজার ৯৪০ ডলার। মঙ্গলবার তা পৌঁছায় ১ হাজার ৯ ৫৪ ডলারে। বুধবারে এখন পর্যন্ত বিশ্ববাজারে সোনার দাম আউন্স প্রতি ১ হাজার ৯৪৮ ডলার। সোনার কেনার ক্ষেত্রে সবসময়ই এগিয়ে এশিয়া আর মধ্যপ্রাচ্য। তবে করোনা মহামারীতে বিনিয়োগের নিরাপদ মাধ্যম হিসেবে সোনার বিনিয়োগ করেছেন পশ্চিমারা।

সোমবার সকালে কেনাবেচা শুরু হতে না হতেই সোনার আউন্সপ্রতি দাম একলাফে ১ হাজার ৯৩১ দশমিক ১১ পয়েন্টে ওঠে। এতেই ১০ পয়েন্টের মতো পেছনে পড়ে যায় আগের রেকর্ডটি, যেটি হয়েছিল ২০১১ সালের ৬ সেপ্টেম্বর। ওই দিন প্রতি আউন্স সোনার দাম ১ হাজার ৯২৩ দশমিক ৭০ ডলারে উঠেছিল। গতকাল রাত সোয়া ৯টায় এই প্রতিবেদন তৈরি করার সময় পর্যন্ত প্রতি আউন্স সোনা ১ হাজার ৯৪২ ডলারে কেনাবেচা হয়। এতে চলতি বছরে এ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক বাজারে এ বছরে সোনার দাম প্রায় ৩০ শতাংশ বেড়েছে।

এদিকে রুপার দামেও গতকাল রেকর্ড হয়েছে। গতকাল প্রতি আউন্স রুপার দাম ২৪ দশমিক ৩৩ ডলারে উঠেছে। এর আগে ২০১৩ সালের সেপ্টেম্বর প্রতি আউন্স রুপার দাম ২৩ দশমিক ৬৪ ডলারে উঠেছিল, যে রেকর্ড ছয় বছর পর গতকাল ভাঙল। চলতি বছরে এ পর্যন্ত পণ্যটির দাম ৩৭ শতাংশ বেড়েছে। অচিরেই রুপার দাম ৩০ ডলারে উঠবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।আন্তর্জাতিক বাজারে সোনা–রুপার দাম নির্ধারণ হয় আউন্স হিসাবে। এক আউন্স সোনা ৩১ দশমিক ১০৩ গ্রামের সমান।

করোনাভাইরাসের প্রভাব, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যকার উত্তেজনা, বৈশ্বিক শেয়ারবাজারের অস্থিরতা, আন্তর্জাতিক মুদ্রাবাজারে মার্কিন ডলারের বিনিময় হার দুর্বল হয়ে পড়া এবং মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে বিনিয়োগকারীরা ‘সেফ হ্যাভেন’ বা নিরাপদ বিনিয়োগখ্যাত সোনা কেনায় ঝুঁকছেন। এ ছাড়া কোভিড-১৯-এর প্রভাব মোকাবিলায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও যুক্তরাষ্ট্রের বিশাল আর্থিক পুনরুদ্ধার প্যাকেজও সোনার মূল্যবৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে। এভাবে চাহিদা যত বাড়ছে, সোনা-রুপার দামও তত বাড়ছে।

কিন্তু কোথায় গিয়ে থামবে সোনার দাম, তা নিয়ে বিশ্লেষকদের মধ্যে কোনো দ্বিমত নেই, বরং তাঁরা সবাই কয়েক দিন ধরেই এক সুরে বলছিলেন, শিগগিরই সোনার দাম আউন্সপ্রতি ২ হাজার ডলারে উঠবে। কিন্তু কমনওয়েলথ ব্যাংক অব অস্ট্রেলিয়ার খনি ও জ্বালানি পণ্য বিশেষজ্ঞ বিবেক ধর সোনার দামে গতকাল আরও ৫০০ ডলার যোগ করে দিলেন। বললেন, ‘প্রতি আউন্স সোনার দাম ১ হাজার ৫০০ ডলার ছাড়িয়ে যাবে। যুক্তরাষ্ট্র সুদের হার শূন্য শতাংশে বা এর চেয়ে নিচে নামিয়ে আনলে এর ধরনের পরিস্থিতি দেখা দিতে পারে বলে মনে করেন তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *