বিস্ফোরণের পর রাস্তার পানিতে ঝাঁপিয়ে পড়েন দগ্ধ মুসল্লিরা

জাতীয়

এশার ফরজ নামাজ আদায় শেষ হয়েছে। সুন্নাত নামাজ আদায় করছিলেন মুসল্লিরা। এমন সময় বিকট শব্দে বিস্ফোরণের পর বিদ্যুৎ চলে যায়। তখন মসজিদ থেকে একে একে মুসল্লীরা খালি গায়ে দগ্ধ হয়ে বের হতে থাকে। ‘বাঁচাও বাঁচাও’ চিৎকার করে একে একে বেরিয়ে আসতে

থাকে। তাদের চিৎকারে সেখানে হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। তাদের মধ্যে দগ্ধ অবস্থায় ৩৭ জনকে উদ্ধার করে শেখ হাসিনা বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। সেখানে এখন পর্যন্ত ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক।প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, অনেকের শরীর থেকেই রক্ত ঝরে পড়ে। ঘটনার পরে বাইরে থেকে লোকজন পানি নিয়ে ভেতরে থাকা লোকজনের শরীরে ছিটিয়ে দেয়। এছাড়া মসজিদের বাইরেও অনেক পানি জমে ছিল। সেখানেও লোকজন এসে গড়াগড়ি করতে থাকে।

দুর্ঘটনার পর সেখানে দেখা গেছে, মসজিদের ভেতরের কয়েকটি স্থানেই প্রচুর পানি জমে ছিল। এসব পানিতে রক্ত ছিল। লাল হয়ে ছিল পানি।বাইতুস সালাত জামে মসজিদ কমিটির সভাপতি গফুর মিয়া জানান, রাত পৌনে ৯টায় এশার নামাজ শেষ হওয়ার পরেই সুন্নত ও মোনাজাতের সময়ে বিকট শব্দ ঘটে। মসজিদের ভিতরের

জানালাগুলো ভেঙ্গে চুরমার হয়ে ভিতরে বাহিরে ধোঁয়ায় ডেকে যায়। তখন আমি বাহিরে ছিলাম আর আমাদের মসজিদ কমিটির সেক্রেটারী হান্নান মিয়া মসজিদের ভিতর নামাজে ছিলো। তখন দ্রুত আমিসহ এলাকাবাসী এগিয়ে এসে মসজিদের ইমাম মাওলানা মালেক নেসারী, মোয়াজ্জেম দেলোয়ার হোসেন, হান্নান মিয়া,

আজিজ, নাদিম, জুলহাস, সাত্তার, আমজাদ, কাঞ্চন হাওলাদার, ফরিদ, শেখ ফরিদ, শরীফ, মোস্তফা কামাল, রাশেদ, নয়ন সহ প্রায় ৪০ জনকে দগ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে শহরের ভিক্টোরিয়া জেনারেল হাসপাতালে প্রেরন করি। সেখান থেকে অনেককেই আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেলে প্রেরণ করেছে জরুরী বিভাগের চিকিৎসক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *