যে হতাশায় ভুগছে বিএনপি

জাতীয়

বিএনপির তৃণমূলসহ শীর্ষস্থানীয় অনেক নেতাই আশা করেছিলেন, খুব শিগগিরই দলের চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া মুক্ত হবেন এবং পুনরায় দলের দায়িত্ব বুঝে নেবেন। কিন্তু সেই আশায় গুড়েবালি। কেননা খালেদা জিয়া রাজনীতির প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন। চেয়ারপার্সনের রাজনীতির প্রতি বিমুখতা ও দলীয় নেতাকর্মীদের উদাসীনতায় হতাশা বেড়েছে বিএনপিতে।

খালেদা জিয়া পরিবারের ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা গেছে, তিনি এখন আর তার পরিবারের সদস্য ও লোকজন ছাড়া কারো সঙ্গে তেমন দেখা-সাক্ষাৎ করেন না। তিনি তার আইনজীবিদের উপরও আস্থা হারিয়ে ফেলেছেন।এছাড়া নিজেও উপলব্ধি করছেন, বিএনপিতে তার চেয়ে এখন তারেক রহমানের গুরুত্ব বা মূল্যায়ন বেশি। তাই তিনি রাজনীতি থেকে অনেকটা বিমুখ। ফলে বিএনপি’র মধ্যে খালেদাকে নিয়ে হতাশা আরো বেড়ে গেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপিতে এক সময়ের প্রভাবশালী ও শীর্ষস্থানীয় এক নেতা বলেন, আমরা রাজনীতিতে আজ চরমভাবে হতাশাগ্রস্ত। ভেবেছিলাম খালেদা জিয়ার মুক্তির পর আমাদের সঙ্গে আলোচনা করবেন। দলের সাংগঠনিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করবেন।দলের মধ্যে কোন্দল নিরসনে বিভিন্ন পরামর্শ দিবেন। অভিমানী নেতাদের ফিরিয়ে আনবেন ফলপ্রসূ উদ্যোগী হবেন। কিন্তু এখনো পর্যন্ত তিনি খোলস ছেড়ে বের হতে পারেননি। তারেক রহমান তাকে পুরোপুরি রাজনীতি শূন্য করে রেখেছেন।

ওই নেতা আরো বলেন, খালেদা জিয়ার উচিত ছিল কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে নেতা-কর্মীদের খোঁজ-খবর নেয়া। করোনাভাইরাস মহামারিতে দেশের জনগণের খোঁজ-খবর নেয়া। কিন্তু তা না করে তিনি নিজেকে ঘরের মধ্যে বন্দি করে রেখেছেন। ফলে দিন দিন আরো হতাশাগ্রস্ত হয়ে যাচ্ছি। ভেবে উঠতে পারছি না এই দলের ভবিষ্যৎ কী?কণ্ঠে হতাশার সুর নিয়ে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের আরেকজন নেতা বলেন, এরআগে বিএনপির অবস্থা কখনো এতো করুন হয়নি। বিএনপি এখন কঠিন সময় অতিবাহিত করছে। তিনি বলেন, দলের মধ্যে আজ অবিশ্বাসে ভরে গেছে। দল দুটি ভাগে বিভক্ত। জানি না কবে এই আমাবস্যার অন্ধকার সরে রাজনীতির আকাশে পূর্ণিমার চাঁদ দেখা দেবে।

সম্প্রতি নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচে এক আলোচনা সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, আন্দোলন চাই, সময় মতো আমি নিজে নাই, টেলিফোন বন্ধ। রাজপথে রক্ত দিমু, কর্মীরে বলুম সাবধানে থাইকো-হয় না, হয় না।নিজ দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ঈমান ঠিক করেন, যেদিন বলতে পারেন মরতে হয় মরবো, গণতন্ত্র আনবো। সেদিনই গণতন্ত্র মুক্তি পাবে, সেদিনই খালেদা জিয়া মুক্তি পাবে, দেশ মুক্তি পাবে, জাতীয়তাবাদী শক্তি গোলামীর জিঞ্জির ছিঁড়ে নিজেদের মুক্ত করতে পারবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *