রংপুর ছাত্রলীগের সভাপতির বি’রু’দ্ধে শিক্ষিকা’কে ধ’র্ষ’ণের অভিযোগ

অপরাধ

রংপুর জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মেহেদী হাসান সিদ্দিকী রনির বি’রু’দ্ধে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক সহকারী শিক্ষিকাকে ধ’র্ষ’ণের অভি’যোগ উঠেছে। এ বিষয়ে ভুক্তভোগী শিক্ষিকা নিজে রংপুর মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি থানায় ধ’র্ষ’ণের অভিযোগ করেন। বিষয়টি রংপুর জেলাজুড়ে ব্যাপক তোল’পাড় শুরু হয়েছে।

ভুক্তভোগী জানান, বি’য়ের প্র’লোভন দেখিয়ে ও ভুয়া বিয়ের নাটক সাজিয়ে তাকে একাধি’কবার ধ’র্ষ’ণ করেছেন রনি। সেই সাথে শিক্ষিকার কাছ থেকে ১৮ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন। পরবর্তীতে স্ত্রীর মর্যাদা দিতে আ’পত্তি জানিয়ে দলীয় প্রভাব খাটিয়ে ভয়’ভীতি দেখান। এতে নিরা’পত্তাহীনতায় ভুগে অবশেষে বাধ্য হয়েই থা’নায় প্রতা’রণা ও ধ’র্ষ’ণের মা’মলা করেন বলে জানান ওই শিক্ষিকা।

কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি আব্দুর রশিদ মা’মলার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, বাদী স্কুল শিক্ষিকাকে ভিক’টিম সাপোর্ট সেন্টারে নেয়া হয়েছে।এদিকে ছাত্রলীগ সভাপতি রনির দাবি ওই শিক্ষিকার সঙ্গে তার শুধু প্রে’মের সম্পর্ক ছিল, এর বেশি কিছু নয়। ওদিকে ছাত্রলীগ নেতা রনি ও ওই স্কুল শিক্ষিকার ঘনিষ্ঠ কিছু ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাই’রাল হওয়ায় বিষয়টি রংপুর টক অফ দ্য টা’উনে পরিণত হয়েছে।

ছাত্রলীগ নেতা রনির বি’রু’দ্ধে ধ’র্ষ’নের অভি’যোগ ওঠায় বিব্র’তকর পরিস্থিতে পড়েছে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ-সংগঠনের নেতা কর্মীরা। দ্বিধা’বিভক্ত হয়ে পড়েছে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। একপক্ষ বলছে, যেহেতু মা’মলা হয়েছে সেহেতু আদা’লতের মাধ্যমে বিষয়টি সুরাহা হবে। অপরপক্ষের দাবি, রাজনৈতিকভাবে হেয় করার জন্যই পরিকল্পিতভাবে ছাত্রলীগ সভাপতি রনির নামে মা’মলা করা হয়েছে। বা’দীর আত্মীয়-স্বজনরা ক্ষো’ভের সাথে বলেন, ধ’র্ষ’ণ মাম’লা করা সত্ত্বেও পুলিশ মা’মলার আ’সামি গ্রে’ফতারসহ কোনও পদ’ক্ষেপ গ্রহণ করেনি।

এ ব্যাপারে কোতোয়ালি থানার আব্দুর রশিদ বলেন, স্কুল শিক্ষিকার মা’মলার ভিত্তিতে আইন’গত পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। মা’মলার এজাহার থেকে জানা যায়, ২০১৭ সালে রংপুর জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মেহেদী হাসান সিদ্দিকী রনির সাথে তানিয়ার পরিচয় ও প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। রনি তাকে বিয়ে করার প্র’লোভন দেখিয়ে ঢাকা কক্সবাজারসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নিয়ে গিয়ে শারী’রিক সম্পর্ক স্থাপন করেন এবং দফায় দফায় ১৮ লাখ টাকা হা’তিয়ে নেন। এরপর বিয়ের কথা বললে রনি টালবাহানা শুরু করেন। পরে তার বন্ধু-বান্ধব ও স্বজনদের চাপা ২০১৯ সালে ১৮ই এপ্রিলে নীলফামারীতে বিয়ে করার জন্য যান এবং নীলফামারী জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি সজল কুমারের বাসায় ভুয়া

কাজী এনে বিয়ে করে বাসর রাত করেন। রনির হাতে একাধি’কবার ধ’র্ষ’ণের শি’কার হয়েছেন বলে দাবি করে ওই এজাহারে আরও উল্লেখ করেন। বিয়ের পর তাকে শ্বশুরবাড়িতে নিয়ে যাওয়ার জন্য বললে টালবাহানা ও সময় পার করেন। এরমধ্যে রনি ছাত্রলীগের সভাপতি ছয় বছর দায়িত্ব পালন করায় সে যুবলীগের সভাপতি পদ পেতে ২০ লাখ টাকা লাগবে বলে তার কাছে চান। এতে তানিয়া টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে গত ৫ই জুন কেরানীপাড়া বাসায় রাত্রিযাপনকালে জোর করে ধ’র্ষ’ণ করেন।এরপর রনি বলেন, সে তাকে বিয়ে করেনি। রংপুর জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল হাসান কানন বলেন, অভি’যোগ যখন উঠেছে তখন বিষয়টি খতিয়ে দেখে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *