রোহিঙ্গা যুবতীকে নিয়ে উধাও এনজিও কর্মী

জাতীয়

সন্ধ্যায় পানি আনতে গিয়ে শফিউল্লাহ নামের এক এনজিও কর্মীর সঙ্গে উধাও হয়ে গেছেন রোহিঙ্গা এক যুবতী। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় উখিয়ার বালুখালী ক্যাম্প-৮ এ এই ঘটনা ঘটে। পালিয়ে যাওয়া তরুণীর নাম জয়নব বেগম (১৬)। সে মিয়ানমারের মংডুর জাহেদ হোসেনের মেয়ে। রোহিঙ্গা তরুণীর বাবা জাহেদ হোসেন জানান, শফিউল্লাহ দীর্ঘদিন ধরে এই ক্যাম্পে চাকরির সুবাদে আমার সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে।

আমার মেয়ে গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় পানি আনার জন্য বের হয়ে আর ফিরে আসেনি। পরে অনুমান করে শফিউল্লাহর মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে কথা হয় আমার মেয়ের সঙ্গে। এখন মোবাইল ফোন বন্ধ করে রেখেছে শফিউল্লাহ।এ বিষয়ে হ্নীলার আলী আকবর পাড়ার মোহাম্মদ আলীর ছেলে শফিউল্লার সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, তিনি জয়নব নামের কাউকে চিনেন না। এদিকে মেয়েকে ফিরে না পেলে থানায় অভিযোগ করবেন বলে জানান তরুণীর বাবা।

আরও পড়ুন= জাতীয় তথ্য বাতায়নের (পোর্টাল) ওয়েবসাইটের আদলে ভুয়া ওয়েবসাইট তৈরি করে এর মাধ্যমে ভূমি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন সংস্থার ভুয়া নিয়োগপত্র ইস্যু করে প্রতারণার চেষ্টা করছে একটি চক্র।রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) ভূমি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন ভূমি প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের (এলএটিসি) ইলেক্ট্রিশিয়ান মো. রুহুল আমিন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেন যে, কে বা কারা তাকে ফোন করে জানায় তার সহ আরও তিনজনের নামে ‘www.latcgovbd.com’ ওয়েবসাইটে নিয়োগপত্র ইস্যু করা হয়েছে।

পরে বিষয়টি প্রাথমিকভাবে খতিয়ে দেখার সময় জানা যায় যে ভূমি প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের (এলএটিসি) ওয়েবসাইটের আদলে একটি নকল সাইট তৈরি করেছে প্রতারক চক্র। এলএটিসির প্রকৃত ওয়েবসাইট (www.latc.gov.bd) নকল করে ভুয়া ওয়েবসাইট (www.latcgovbd.com) সৃজন করে মো. রুহুল আমিনসহ আরও তিন কথিত ব্যক্তি – মো. রায়হান রহমান, মো. আব্দুস সালাম ও মো. আরিফুল ইসলামের নামে চলতি বছরের গত ২১ জুন ভুয়া নিয়োগপত্র ইস্যু করেছে প্রতারক চক্র। ভূমি মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রকৃতপক্ষে এলএটিসি থেকে মো. রায়হান রহমান, মো. আব্দুস সালাম ও মো. আরিফুল ইসলামের নামে কোনো নিয়োগপত্র ইস্যু করা হয়নি। বর্ণিত নিয়োগপত্রটি ভুয়া। ভুয়া সরকারি ওয়েবসাইট তৈরি, স্বাক্ষর জাল ও ভুয়া নিয়োগপত্র প্রদান করা একটি গুরুতর ও দণ্ডনীয় ফৌজদারি অপরাধ।

উল্লেখ্য, এলএটিসি কার্যালয়ের ইলেক্ট্রিশিয়ান মো. রুহুল আমিনকে গত ২১ জুন ৪৬২নং স্মারকে নিয়োগপত্র প্রদান করা হয়েছিল। তিনি বর্তমানে এলএটিসিতে কর্মরত।আপাতদৃষ্টে প্রতীয়মান হচ্ছে যে ভুয়া ওয়েবসাইট সৃষ্টিকারীরা এলএটিসির আসল ওয়েবসাইট থেকে উক্ত স্মারক ও নিয়োগপত্র সংগ্রহ করে এর একাংশ স্ক্যান করে ব্যবহার করেছে। আরও প্রতীয়মান হচ্ছে যে প্রতারক চক্র প্রকৃত নিয়োগপ্রাপ্ত মো. রুহুল আমিনসহ উপর্যুক্ত তিন ব্যক্তি (যদি নামও ভুয়া না হয়ে থাকে) থেকে অর্থ হাতিয়ে নেয়ার পরিকল্পনা করছিল কিংবা করছে।

ইতিমধ্যে, এলএটিসি ওয়েবসাইটের মূল পোর্টাল ডেভেলপার এটুআই কে ই-মেইলের মাধ্যমে বিষয়টি জানানো হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে অনুরোধ করা হয়েছে। এছাড়া বিটিসিএলকে পত্র লিখে ভুয়া সরকারি ওয়েবসাইট সৃষ্টিকারীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণসহ তাদের নাম ও পূর্ণ ঠিকানা ভূমি প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রকে জানানোর অনুরোধ করা হয়েছে। এছাড়া নিউ মার্কেট থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করার প্রস্তুতি চলছে।ভূমি মন্ত্রণালয় কিংবা এর আওতাধীন দফতর/সংস্থায় চাকরি দেয়ার নামে কেউ যদি অর্থ দাবি করে তাহলে সঙ্গে সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করতে সবাইকে পরামর্শ দিয়েছে মন্ত্রণালয়। ভুয়া নিয়োগে বিভ্রান্ত না হয়ে সতর্ক থাকার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে আন্তরিকভাবে অনুরোধ করা হয়েছে। এ ব্যাপারে ভূমি মন্ত্রণালয় বেশ কয়েকবার সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তিও প্রকাশ করেছে।

উল্লেখ্য, নকল ওয়েবসাইটটির ডোমেইনে নামের বানান ভূমি প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ওয়েবসাইটের নামের বানানের থেকে আলাদা। তবে খুব কাছাকাছি। ভূমি প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের প্রকৃত ওয়েবসাইটের অ্যাড্রেস (www.latc.gov.bd) অন্যদিকে ভুয়া ওয়েবসাইটের এড্রেস (www.latcgovbd.com) লক্ষণীয়, ভুয়া ওয়েবসাইটের সেকেন্ড লেভেল ডোমেইন ‘latcgovbd’ এবং টপ লেভেল ডোমেইন ‘.com’ অন্যদিকে ভূমি প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের প্রকৃত ওয়েবসাইটের অ্যাড্রেসের সেকেন্ড লেভেল ডোমেইন ‘latc’ এবং টপ লেভেল ডোমেইন ‘.gov.bd’ যা কেবল বাংলাদেশ সরকারের জন্য সংরক্ষিত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *