সম্পদের পাহাড়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আফজাল

জাতীয়

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী থেকে ২০ বছরে হাজার কোটি টাকার মালিক আফজাল। বেশকিছু দিন পালিয়ে থাকার পর স্বাস্থ্য দুর্নীতির এই বরপুত্র এখন কারাগারে।

দুর্নীতি দমন কমিশন ও অন্যান্য সংস্থার তদন্তে উঠে আসে তার অঢেল অবৈধ সম্পদের তথ্য। উত্তরার ১৩ নং সেক্টরে ১১ নম্বর রোডে চারটি বিলাসবহুল বাড়ি। সারাদেশে অর্ধশতাধিক প্লট ও বাড়ি, তিনটি জাহাজ, ইট ভাটাসহ সবই গড়েছেন নামে বেনামে। অস্ট্রেলিয়া ও আমিরিকাতেও কিনেছেন বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। ফরিদপুরে চোখ ধাঁধানো এই আলিশান বাড়ি দুটির মালিক স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের চতুর্থ শ্রেণীর কর্মকর্তা

আবজাল। ১৯৯৩ সালে মেডিকেল উন্নয়ন প্রকল্প সমন্বকারীর ক্যাশিয়ার হিসেবে অস্থায়ী চাকরি দিয়ে শুরু। এরপর উচ্চ মাধ্যমিক পাশ আবজাল চাকরী স্থায়ী করেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মেডিকেল এডুকেশন শাখায় এসে। স্ত্রী রুবিনাও ছিলেন একই দপ্তরের স্টেনোগ্রাফার। ২০ বছরে ১২শ টাকা থেকে সর্বসাকুল্যে ২৪ হাজার টাকায় শেষ করেন চাকরী।

কিন্তু চতুর্থ শ্রেণীর পদ পুঁজি করেই বাগিয়ে নিয়েছেন শত শত কোটি টাকার ঠিকাদারি। রহমান ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল নামে প্রতিষ্ঠান খুলে কখনো কাজ করেছেন নিজে। কখনো অন্যকে দিয়ে। বদলী নিয়োগ বানিজ্যের হোতা ছিলেন এই আবজাল। দুর্নীতির মাধ্যমে স্বাস্থ্যখাতকে লুটপাটকারী

আবজালের সম্পদে ভড়কে যাবে যে কেউ। উত্তরা ১৩ নং সেক্টরের ১১ নম্বর রোডে চারটি বাড়ি ও প্লট। মিরপুর কালশী মেরুল বাড্ডা দক্ষিণখান ও মানিকদীতে বাড়ি। রাজধানীর গুলশান বনানী ও বারিধারা এলাকায় বাবা মা ভাই বোনের নামে ২০টি প্লট, সারাদেশে আরো অর্ধ শতাধিক প্লট বাড়ি। ফরিদপুর শহরের আবাসিক এলাকায় দুটি ফ্ল্যাট। ফরিদপুর ডিগ্রির চরে ইট ভাটা ও তিনটি জাহাজও কিনেছেন আবজাল। মালয়েশিয়ায় ২ একর জমি, অস্ট্রেলিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় রয়েছে বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। চড়তেন লেক্সাসসহ বিলাসবহুল গাড়ীতে। নানা

আলোচনা সমালোচনার পর আত্নগোপনে থাকা আবজাল গেল ২৬ আগস্ট আত্নসমর্পণ করলে কারাগারে পাঠান আদালত। এরইমধ্যে আফজাল দম্পতির উত্তরা, ফরিদপুর ও খুলনার বাড়ি ও প্লট ক্রোক করেছে দুদক। সূত্র: নিউজ টোয়েন্টিফোর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *