সৌদিতে পাশবিক নি-র্যাতন, লাশ হয়ে ফিরলো ছোট্ট কুলসুম

জাতীয়

পরিবারে সচ্ছলতা ফেরানোর এক বুক আশা নিয়ে কিশোরী বয়সে সৌদি আরবে গিয়েছিলেন ব্রা-হ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার নূরপুরের উম্মে কুলসুম। চাকুরি ও বেতনের পরিব-র্তে নি-র্যাতনের শিকার হয়ে সে দেশের একটি হাসপাতালে মারা যান তিনি।

কিশোরী উম্মে কুলসুম ওই গ্রামের শহিদুল ইসলামের মেয়ে। শনিবার দুপুরে নিজ গ্রামে পৌঁছায় তার লা-শ, দাফন করা হয় স-ন্ধ্যার পর।কুলসুমের বড় বোন উম্মে হাবিবা বলেন, অনেক স্বপ্ন নিয়ে আমার বোন সৌদি আরব গিয়েছিলো। সেখানকার মানুষের অমানসিক নি-র্যাতনের শিকার হয়ে বিদেশ-বিভূঁইয়ে মারা যায় সে। পরিবারে স্বচ্ছলতা ফেরাতে গিয়ে লাশ হতে হলো তাকে।

তিনি জানান, ৯ আগস্ট সৌদি আরবের একটি হাসপাতালে মারা যান উম্মে কুলসুম। শু-ক্রবার রাত দেড়টার দিকে তার লাশ রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আসে। শনিবার দুপুরে তার লাশ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছায়। মাগরিবের নামাজের পর দাফন করা হয়।কুলসুমের বাবা শহিদুল ইসলাম জানান, ১৭ আগস্ট জনশক্তি কর্ম-সংস্থা-ন ও প্রশি-ক্ষণ ব্যুরোতে মেয়ের মরদেহ ও আট মাসের বকেয়া বেতন পেতে একটি লিখিত আবেদন করেন তিনি। অভিযোগে তিনি জানান,

স্থানীয় দালাল রাজ্জাক মিয়া ৩০ হাজার টাকার বিনিময়ে ১৭ মাস আগে কুলসুমকে গৃহক-র্মীর কাজে সৌদি আরব পাঠানোর ব্যব-স্থা করেন। সেখানে গৃহক-র্মী হিসেবে যোগদানের পর থেকেই কুলসুমের ওপর শারি-রিক ও যৌ-ন নির্যা-তন শুরু করে মালিকপ-ক্ষ। এক পর্যা-য়ে মেয়েকে ফিরে পেতে রিক্রুটিং এজে-ন্সির সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করার পরও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। চার মাস আগে কুলসুমের দুই হাঁটু ও কোমর ভেঙে দেয় সৌদি আরবের গৃ-হক-র্তা ও তার ছেলে।

কিছুদিন পর একটি চোখ নষ্ট করে সড়কে ফেলে দেয়। পরে সৌদি আরবের পুলিশ তাকে উ-দ্ধার করে কিং ফয়সাল হাসপাতালে ভ-র্তি করে। ৯ আগস্ট হাসপাতালে মারা যান কুলসুম।নাসিরনগর থানার ওসি এটিএম আরিচুল হক বলেন, দুই দেশের বিষয় হওয়ায় আমাদের প-ক্ষে কোনো আইনি ব্য-বস্থা নেয়ার সুযোগ নেই। এছাড়া পররা-ষ্ট্র ম-ন্ত্রণালয় থেকে আমরা কোনো নির্দে-শনা পাইনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *