১৩ মাস ধরে বেতন নেই, কষ্ট করে চলছে জীবন!

জাতীয়

গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বশেমুরবিপ্রবি) ১৩ মাস যাবৎ বন্ধ রয়েছে অস্থায়ী কর্মচারীদের বেতন-ভাতা। তিন দফা দাবি নিয়ে তারা ২০১৯ সালের নভেম্বর হতে পালন করে আসছে নানামুখী আন্দোলন এবং অবস্থান কর্মসূচি।কর্মসূচি কিছুদিন বন্ধ থাকলেও নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কিউ এম মাহবুব যোগদানের দ্বিতীয় দিন (৭সেপ্টেম্বর)থেকেই এবারে কর্মচারীদের স্থায়ীকরণ এবং বকেয়া বেতন পরিশোধের এ ২দফা দাবি নিয়ে আবারো অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন অস্থায়ী কর্মচারীরা।

এ বিষয়ে কর্মচারী সদস্যা শেখ নাহিদ বিডি২৪লাইভকে বলেন, ১৩ মাস ধরে নেই কোনো বেতন তারপর আবার করোনা পরিস্থিতি, ছেলে মেয়ে আর বৃদ্ধ বাবা মা নিয়ে পরিবারের ব্যয়ভার বহন করতেই বিপাকে পড়েছি। নিজেকে খুব অসহায় মনে হচ্ছে।তিনি আরও বলেন, কর্মসূচি নিয়ে সকল তথ্য আজ সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্যের নিকট প্রেরণ করা হয়েছে।কর্মচারী আরেক সদস্য শারমিন খানম বলেন, আমার পরিবারে সদস্য সংখ্যা ৪জন।

টাকার অভাবে ছেলের জন্য দুধ কিনতে পারিনা কিনতে পারিনা অসুস্থ শাশুড়ির জন্য ওষুধ। সব মিলিয়ে তীব্র সংকটে কাটছে জীবন।এছাড়া পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম কর্মচারীর আরেক সদস্য নিবারাণী হালদার বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ে আমার স্বামী কাজ করতেন তবে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যাওয়ার সাবেক উপাচার্য খন্দকার নাসিরউদ্দিন আমাকে কাজ করার অনুমতি এবং স্থায়ীকরনের নিশ্চয়তা দেন।

বর্তমানে এক সন্তান নিয়ে আমি শ্বশুরবাড়ীতে অবস্থান করছি। এমতাবস্থায় করোনা পরিস্থিতিতে সব সামলে নিতে অনেক সমস্যায় পড়ছি।এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কিউ এম মাহবুবের সাথে মুঠোফোনের মাধ্যমে যোগাযোগ করলে বলেন, “তিনি কোনো স্মারকলিপি পাননি তবে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত আছেন।”

এ সময় কর্মচারীদের সমস্যার সমাধানের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা দুই তিনদিনের মধ্যে এ বিষয়ে একটি মিটিং করবো এবং তারা কিভাবে নিয়োগ পেলো, কে কাজে কতটা দক্ষ এসকল বিষয়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবো।’প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালের নভেম্বর থেকে অস্থায়ী কর্মচারীদের স্থায়ীকরনের দাবিতে নানামুখী আন্দোলন এবং কর্মসূচি পালন করে আসছে।প্রায় ১৩মাস যাবৎ এসকল কর্মচারীদের বেতন -ভাতা বন্ধ রয়েছে।দৈনিক মজুরি ভিত্তিক এমন ১৭৬জন কর্মচারী রয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *